প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যে নির্মাণ খাতে কর্মরত ৪৪ জন অভিবাসী শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) কেদাহ রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে বড় একটি অংশই বাংলাদেশি নাগরিক।
গত রোববার (১০ মে, ২০২৬) পরিচালিত ‘অপ সাপু’ (Op Sapu) নামক একটি বিশেষ অভিযানে এই শ্রমিকদের আটক করা হয়। অভিযানের মূল তথ্যগুলো হলো:
আটককৃতদের নাগরিকত্ব: মোট ৪৪ জনের মধ্যে ৩৯ জন বাংলাদেশি, ৪ জন ইন্দোনেশীয় এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিক।
অভিযানের স্থান: বান্দার দারুলামানের একটি বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণস্থল।
অভিযোগ: নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করা (Overstay), পাসের অপব্যবহার এবং বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্ট না থাকা।
বয়সসীমা: আটককৃত শ্রমিকদের বয়স ২২ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে।
কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, ১২ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি দল ৪৭ জনকে তল্লাশি করে ৪৪ জন বিদেশিকে আটক করে। বর্তমানে তাদের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৯৫৯/৬৩ ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় তদন্ত চলছে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের এই সংকটের বিষয়টি ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রম বাজারের বিবর্তনের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও রাবার বাগান (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে ব্রিটিশ শাসনামলে মালয়েশিয়ায় (তখনকার মালায়া) ভারত ও তৎকালীন বাংলা অঞ্চল থেকে শ্রমিক নেওয়া শুরু হয় মূলত রাবার বাগান ও পাম তেলের চাষের জন্য। তখন অভিবাসন ছিল অনেকটা অনিয়ন্ত্রিত এবং ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল।
স্বাধীনতা ও রেমিট্যান্স যুদ্ধ (১৯৭১-১৯৯০): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক মুক্তির ডাক এদেশের মানুষকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার প্রেরণা জুগিয়েছিল। স্বাধীনতার পর আশির দশক থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়, যা বর্তমানে আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।
২০২৪-এর বৈশ্বিক শ্রম সংকট ও ২০২৬-এর কড়াকড়ি: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সিন্ডিকেট ও অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা ২০২৬ সালেও কাটেনি। মালয়েশিয়া সরকারের বর্তমান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মূলত ১৯০০ সালের সেই ওপেন-ডোর পলিসি থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই পরাধীন আমলের ‘শ্রমিক রপ্তানি’ থেকে ২০২৬ সালের ‘অধিকারভিত্তিক অভিবাসনে’ পৌঁছাতে আমাদের এখনও অনেক পথ বাকি। অবৈধভাবে অবস্থান করে ৩৯ জন বাংলাদেশির আটক হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সঠিক নথিপত্র ছাড়া প্রবাসে থাকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
ইতিহাস সাক্ষী, অভিবাসী শ্রমিকরা সবসময়ই শোষণের শিকার হন যদি না শক্তিশালী কূটনৈতিক ও আইনি সুরক্ষা থাকে। ১৯০০ সালের সেই রাবার বাগানের কুলি থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক নির্মাণ শ্রমিক—বাংলাদেশি ভাইদের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াই আজও চলছে। কেদাহ ইমিগ্রেশনের এই অভিযান মূলত দালাল চক্র ও অবৈধ নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধেই একটি সতর্কতা। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সরকারের উচিত মালয়েশিয়া সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বৈধ পথে দক্ষ শ্রমিক পাঠানো নিশ্চিত করা এবং আটককৃতদের আইনি সহায়তা প্রদান করা।
সূত্র: ১. মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ (JIM) কেদাহ রাজ্য শাখার বিবৃতি (১১ মে, ২০২৬)। ২. কুয়ালালামপুর ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বের্নামা ও দ্য স্টার-এর প্রতিবেদন। ৩. ঐতিহাসিক দলিল: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাঙালি অভিবাসনের ইতিহাস (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |